প্রাণায়ামে মুদ্রার ভূমিকা - whatsappstatus99

LATEST

Saturday, August 17, 2019

প্রাণায়ামে মুদ্রার ভূমিকা

প্রাণায়ামে অঙুলি সংস্থাপন একটি বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করে থাকে । এই অঙুলির ব্যয় পঞ্চভূতুকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব । এবার দেখুন কোন আঙুল কিসের প্রতীক । 
প্রাণায়ামে মুদ্রা‌‌র সঠিক পদ্ধতি

বৃদ্ধাগুষ্ট (বুড়াে আঙুল) – সূর্য বা আগুনের প্রতীক । তর্জনী (নির্দেশক আঙুল) – বাতাস বা বায়ুর প্রতীক 
মধ্যমা (মাঝের আঙুল) – মহাকাশের প্রতীক । 
অনামিকা (অঙ্গুরীয়) – পৃথিবীর প্রতীক । 
কনিষ্ঠা (কড়ে আঙুল) – জলের প্রতীক।


 (১) ধ্যান মুদ্রা 
ধ্যান মুদ্রা | কিভাবে করবেন

প্রাণায়ামের সময় শুধু তর্জনীর দ্বারা বৃদ্ধাশূল স্পর্শ করতে হবে । এৰি লক্ষ্যকরে সুন ।
উপকারিতাঃ - এই অভ্যাসটা সকাল সন্ধ্যায় অন্ততঃ ১৫ বার করতে হবে । এই মুদ্রার সাহায্যে একাগ্রতা ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায় । দুশ্চিন্তা দূর হয় ! অনিদ্রাজনিত ক্লান্তি নাশ হয় ।

(২) বায়ু মুদ্রা 
বায়ু মুদ্রা | কিভাবে করবেন

এই মুদ্রায় তর্জনীকে বুড়াে আঙুলের গােড়ায় বা মূলে মাউন্ট অফ ভেনাসের উপর চেপে ধরে রাখতে হবে । শুধু চেপে ধরে রাখলে হবে না । চাপ দিতে হবে । ( ছবি দেখে অভ্যাসবুন ) বাকি ৩টি আন্স । ল সােজা থাকবে । অন্ততঃ ১০ - ১৫ মিনিট ধরে করতে হবে ।
উপারিতাঃ - এই মুদ্রায় যে কোন বাত রােগ ভালাে হয় । বিশেষ করে সধিবাত , গেঁটে বাত , আর্থারাইটিস , কম্পা , পক্ষাঘাত , হাঁটুর যন্ত্রণা , সাইটিকা এবং গ্যাস জাতীয় রােগ দূর হয় ঘাড় ও মেরুদন্ডের যন্ত্রনাতেও এই মুদ্রা বিশেষভাব ফল দেয় ।

(৩) আকাশ মুদ্রা 

মধ্যমা অখুলি আকাশ তত্ত্বের নেতৃত্ব দেয় । এই মুদ্রায় মধ্যমা আঙুলকে বুড়াে আঙুলের মূলে লাগিয়ে চেপে রাখতে হবে । বাকি আসুলগুলি সােজা থাকবে । ছবি দেখে অভ্যাস করুন ) । অন্তত ১০ - ১৫ মিনিট ধরে করতে হবে ।
উপকারিতা — এই মুদ্রা নিয়মিত করলে মাথা ঘােরা , কানের যে কোন রােগ — কানের যন্ত্রণা , কানে কম শােনা , বধিরল । থাইরয়েড জনিত রােগ , গলার রােগ , দূর হয় । হৃদয়ের লেগ ঠিক হয় । মাড়ি মজবুত ।

(8) পৃথিবী মুদ্রা 

এই মুদ্রায় অনামিকা নিয়ে বৃদ্ধাঙ্গুলিকে চাপ দিতে হবে । অভ্যাসটি অন্ততঃ ৩০ সেকেণ্ড ধরে ১৫ বার করতে হবে।
উপকারিতা: মুদ্রায় অভ্যস্ত হলে শরীরের ওজনের স্বল্পতা এবং মুটিয়ে যাওয়া রােগ দূর হয় শারীরিক দুর্বলতা দূর হয় । দেহ ও মনের সজীবতা বৃদ্ধি পায় । মানসিক শান্তি বজায় থাকে । সাত্তিক গুণগুলাে বিকাশ ঘটে । শরীরে ক্ষুর্তি , তেজবীতা বৃদ্ধি পায় ।

(৫) প্রান মুদ্রা 

এই মুদ্রাকনিষ্ঠা, অনামিক্স এবংকৃষ্ঠের গুগকে একসঙ্গে মেলাতে হবে । বাকি দুটি আঙ্গুল সােজা রাখতে হবে । এটি অন্তত ৩০ সেকেওকরতে হবে । ১৫ - ২০ বার । ছবি দেখে অভ্যাসন ।
উপকারিতা:– এইমদ্রায় প্রাণের সপ্ত শক্তির বিকাশ ঘটে শরীর ও মন সূর্তিতে বিরাজ করে চোখের দোষ কাটে জ্যোতি বাড়ায় । দীর্ঘ সময় এই মুদ্রা অভ্যাসের ফলে উপবাস করলেও ক্ষুধা তৃষ্ণা থাকে না । অনিত্রায় একে জ্ঞান মুদ্রার সলো করলে ভালাে ফল পাওয়া

(৬) অপান মুদ্রা 
অপান মুদ্রা | কিভাবে করবেন

এই  মুদ্রা কৃপাশ্রষ্ঠ , মধ্যামা এবং অনামিক্সঅগ্রভাগকে এক জায়গায় এনে পরস্পরকে স্পর্শ করতে হবে বাকি দুটি আশুকে লােজা রাখতে হবে ।
উপকারিতা - পেটের জন্য এই মুদ্রা বিশেষ ভাবে ফল দেয় । হৃদরােগে এই মুদ্রা বিশেষ ফল দেয় । শরীরে বিজাতীয় তত্ত্ব বাহিরে বের করে দেয় । নিয়মিত অভ্যাসে এই মুদ্রায় কোষ্টকাঠিন্য , অর্শ , ডায়াবেটিজ , বায়ু বিকার , কিনীর দোষ , দকিার , মূত্রদােষে , ভাল ।

(৭) অপান বায়ু মুদ্রা

এই মুদ্রায় একমাত্র কনিষ্ঠা আঙ্গুলি সােজা রেখে বাকি অশুলি কৃশশু , তর্জনী , মধ্যম এবং অনামিকার অগ্রভাগকে এক সঙ্গে মিলিয়ে স্পর্শ করতে হবে।  উপকারিতাঃ – উচ্চ রক্তচাপ জনিত রােগ ও হাঁপানি মাথা ব্যাথা এর - ক্ষেত্রে খুব ভালাে ফল দেয় সিঁড়ি চড়ার ক্ষেত্রে ৫ - ১০ মিনিট আগে এই মুদ্রা করলে সিড়ি ভাশা ক্লান্তি মােটেই বােধ হয় না । যাদের দুবর্ল হৃদয় তাদের এই মুদ্রা নিয়মিত অভ্যাস করা উচিত । হৃদ রােগে আক্রান্ত হলে এই মুদ্রা করলে আরাম পাওয়া যায় । পেটে হঠাৎ গ্যাস সৃষ্টি হলে এই পা মুদ্রা পেট থেকে গ্যাস বের করতে সাহায্য করে ।

(৮) অগ্নি মুদ্রা (সূর্য) 

এই মুদ্রায় অনামিকাকে মুড়ে তার বাইরের দিকে দ্বিতীয় ভাজে বােশ্রষ্ঠ দিয়ে চাপ দিন । অভ্যাসটি ৩০ সেকেণ্ড ধরে ১৫ - ২০ বার করতে হবে।
উপকারিতাঃ - এই মুদ্রায় অভ্যস্ত হলে হজম শক্তি বাড়বে । দেহে তাপসৃষ্টি হবে চর্বি কমবে টেনশানকামে , শক্তির বিকাশ ঘটে । রক্তের ক্রোলেস্ট্রলের পরিমান কমে যায় ।

(৯) বরুন মুদ্রা 

এই মুদ্রায় আছে জীবনী শক্তি । এই মুদ্রায় কনিষ্ঠা ও বুদ্ধশুষ্ঠা এমনভাবে মুড়তে হবে যাতে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠের অগ্রভাগকে কনিষ্ঠা স্পর্শ করতে পারে । অভ্যাসটি ১৫ - ২০ বার ৩০ সেকেণ্ড করে করতে হবে । ছবি দেখে অভ্যাস করুন।
উপকারিতাঃ– এর রুক্ষতা কেটে যায় ত্বক মােলায়ম হয় । জল । তত্ত্বের অভাব থেকে উৎপন্ন ব্যাধিগুলাে দূর হয় । মানসিক দুর্বলতাকে কাটিয়ে মনকে সজীব করে চোখের দৃষ্টি বাড়ায় ।

(১০) শিবমুদ্রা 
শিবমুদ্রা | খুব সহজে করবেন

এই মুদ্রায় হাতের তালু জুড়ে নিয়ে আঙুলগুলিকে পরস্পরের . খাজে ঢুকিয়ে দিতে হবে এবার বা হাতের বুড়াে আঙুল সোজা করে রেখে ডান হাতের তর্জনী ও বুড়াে আঙুল দিয়ে জড়িয়ে নিন । ছবি দেখে অভ্যাস করুন । ১৫ - ২০ বার করুন ।
উপকারিতা:– ফুসফুসেরশক্তি বৃদ্ধি করে শরীরে তাপ সৃষ্টি করে সর্দি ও শ্রেয়া হ্রাস করে । দেহের চর্বি কমায় । এই মুদ্রা ৮ প্রয়ােগ করলে জল , ফল , ফলের রস ঘি আর দুধের সেবন বেশি মাত্রায় করা উচিত । এই মুদ্রা বেশী সময় ধরে করা উচিত নয় ।

(১১) শ্বাস ধারণ করার উপায় 
 শ্বাস ধারণ করার উপায় | খুব সহজে করবেন

প্রাণায়ামের সময় আপনি যখন শ্বল নেবেনতখন তর্জনী দিয়ে বৃদ্ধাঙ্গুলি লের উপর জোরে চাপ দিতে থাকবেন । ক্রমে তা মাঝে , উপরে , নিচে ওঠা - নামা করাবেন । এতে শ্বস ধারনের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে । বিশেষভাবে লক্ষনীয় যে উপরিউক্ত মুদ্রাগুলি যে কোন অবস্থায় করা যেতে পারে । কিন্তু সুখাসনে বা পরাসনে বসে করলে ভালাে ফল পাওয়া যায় ।

কি করে দীর্ঘায়ু হওয়া যায় 

এই প্রাচীন শাস্ত্রমতে দিন - মাস - বছর এই সময় ধরে আয়ুর পরিমাপ করা যায় না । আর পরিমাপ হয় শ্বাস গ্রহণের মাধ্যমে । যে যত সময় ধরে দেহের মধ্যে শ্বাস বায়ুকে ধরে রাখতে । পারবের আয়ু রেখা তত বৃদ্ধি পাবে ।

No comments:

Post a Comment